
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪,৪৯৭ কোটি টাকা। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
প্রকল্পের অবস্থান ও উদ্দেশ্য
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পদ্মা নদীতে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। পদ্মা নদীর ওপর নির্ভরশীল দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ জমিতে পানির সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি নদীকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এর ফলে সুন্দরবন অঞ্চল থেকে আসা লবণাক্ততা কমবে এবং জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কৃষি ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
উপকারভোগী এলাকা ও জনগণ
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। এছাড়া
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত হবে, যা দেশের চারটি বিভাগের ২৬ জেলার ১৬৩ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
পানি সংরক্ষণ ও নদী পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনা
ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পদ্মা নদীতে প্রায় ২,৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে। সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে পাঁচটি নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
পুনরুজ্জীবিত হতে যাওয়া নদীগুলো হলো
শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহ করা হবে।
ব্যারাজের অবকাঠামোগত বৈশিষ্ট্য
প্রথম ধাপে নির্মিতব্য পদ্মা ব্যারাজে থাকবে
জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পদ্মা ব্যারাজ ও গড়াই অফ-টেক এলাকায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্র থেকে মোট ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।