স্বল্পমেয়াদি, উচ্চফলনশীল এবং চিকন আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ ধান ৪’ উদ্ভাবন করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। অধ্যাপক এম ময়নুল হক ও মো. মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে ধানের নতুন জাতটি উদ্ভাবন করেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ধানের জাতের সংখ্যা ৪টিতে এবং মোট উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৫টি।
জিএইউ ধান ৪ ধানের কিছু তথ্য-
- ‘জিএইউ ধান ৪’ স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিপক্ব হয়।
- একই জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাওয়া যাবে।
- উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় এ জাত নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
- প্রচলিত আউশ ধান ‘পারিজা’ ও উচ্চফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান-২’-এর সংকরায়ণের মাধ্যমে নতুন জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।
- ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় ‘জিএইউ ধান ৪’ জাতের অনুমোদন দেওয়া হয়।
- এ ধানে অ্যামাইলেজ এনজাইমের পরিমাণ প্রায় ২৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
- প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
- এটি সহজে হজমযোগ্য এবং মানবদেহের পুষ্টিচাহিদা পূরণে সহায়ক।
- ধানের দানা লম্বা ও চিকন।
- বীজ বপনের ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ফসল কাটা যায়।
- অনুকূল পরিবেশে প্রতি হেক্টরে ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব।
- প্রতি হেক্টরে ২৫ থেকে ৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়।
- জিএইউ–৪ জাতটি রোগবালাই প্রতিরোধী এবং সাধারণ জাতের তুলনায় গড়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম।
- কম পানি প্রয়োজন ফলে জলবায়ুসহনশীল ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষযোগ্য।
- ২০ থেকে ২২ দিনের চারা কাদা জমিতে রোপণ করতে হয়।
- সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১৫ সেন্টিমিটার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।