ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।
- ভোটগ্রহণ: ১২ ফ্রেব্রুয়ারি, ২০২৬
- মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬
- প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬
- মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন
- পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন।
- নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন।
- হিজড়া ভোটার রয়েছে ১ হাজার ১২০ জন।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে মধ্যে
- সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে; ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন।
- সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।
প্রার্থী তথ্য
- বেশি প্রার্থী- ঢাকা-১২ আসনে ১৫ জন।
- কম প্রার্থী পিরোজপুর-১ আসন্ননে মাত্র ২ জন
মোট নিবন্ধিত দল ৬০ টি
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ৫১ টি
দল ও তাদের প্রার্থী সংখ্যা
- বিএনপি- ২৮৮ জন
- জামায়াতে ইসলাম- ২২৪ জন
- ইসলামী আন্দোলন- ২৫৩ জন
- এনসিপি- ৩২ জন
- জাতীয় পার্টি- ১৯২ জন
- গণ অধিকার পরিষদ – ৯০ জন
- কমিউনিস্ট পার্টি- ৬৫ জন
- স্বতন্ত্র – ২৪৯ জন
- অন্যান্য দলের প্রার্থী- ৫৮৮ জন
ভোটার সংখ্যায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন জেলা ও আসন
- সর্বোচ্চ ঢাকা- ৮৪৭৪৯৮৫ জন
- সর্বনিম্ন বান্দরবান ৩১৫৪২২ জন
ভোটার সংখ্যায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন আসন
- সর্বোচ্চ গাজিপুর ২ - ৮০৪৩৩৩ জন
- সর্বনিম্ন ঝালকাঠি ১ - ২২৮৪৩১ জন
ভোটার প্রতি প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ টাকা।
১। তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে।
২। সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না।
৩। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে।
৪। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
৫। যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
৬। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে।
৭। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
৮। দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
৯। আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন: ইন্টারনেট সেবা কখনও বন্ধ করা যাবে না) বাড়বে।
১০। দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না।
১১। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।

স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছিল প্রশাসনিক এবং একটি সাংবিধানিক গণভোট।
১. প্রথম গণভোট (১৯৭৭)
- তারিখ: ৩০ মে, ১৯৭৭
- প্রেক্ষাপট: তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকাজের বৈধতা ও তাঁর নীতি-কর্মসূচির ওপর জনগণের আস্থা যাচাই।
- ফলাফল: ভোটার উপস্থিতি: ৮৮.১%
- 'হ্যাঁ' ভোট: ৯৮.৯%
- 'না' ভোট: ১.১%
২. দ্বিতীয় গণভোট (১৯৮৫)
- তারিখ: ২১ মার্চ, ১৯৮৫
- প্রেক্ষাপট: রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নীতি ও কর্মসূচির বৈধতা যাচাই।
- পদ্ধতি: আস্থার জন্য এরশাদের ছবিসহ 'হ্যাঁ' বাক্স এবং অনাস্থার জন্য 'না' বাক্স ব্যবহার করা হয়।
- ফলাফল: ভোটার উপস্থিতি: ৭২.২%
- 'হ্যাঁ' ভোট: ৯৪.৫%
- 'না' ভোট: ৫.৫%
৩. তৃতীয় গণভোট (১৯৯১)
- তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১
- প্রেক্ষাপট: সংসদীয় পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা (দ্বাদশ সংশোধনী) ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জনগণের রায় গ্রহণ।
- ফলাফল: ভোটার উপস্থিতি: ৩৫.২% (সবচেয়ে কম উপস্থিতি)
- 'হ্যাঁ' ভোট: ৮৪.৩৮% (সংসদীয় প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে)
- 'না' ভোট: ১৫.৬২%