দেশের রপ্তানি খাতে স্বল্পমেয়াদি মূলধন ঘাটতি দূর করতে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সোয়াপ’ সুবিধা চালু করা হয়েছে। রপ্তানিকারকরা তাদের রপ্তানি আয়ের বৈদেশিক মুদ্রা (যেমন মার্কিন ডলার, ইউরো, পাউন্ড বা ইয়েন) নগদে বিক্রি না করে টাকার সুবিধা নিতে পারবেন ‘সোয়াপ’ চুক্তির মাধ্যমে।
‘সোয়াপ’ হলো একটি চুক্তি-ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা, যেখানে একজন রপ্তানিকারক সাময়িকভাবে তার বৈদেশিক মুদ্রা একটি ব্যাংকে হস্তান্তর করেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর তা ফেরত পান। এই সময়ের মধ্যে ব্যাংক তাকে সেই ডলারের সমমূল্যের টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রা) প্রদান করবে। মেয়াদ শেষে রপ্তানিকারক সেই টাকা ব্যাংকে ফেরত দিয়ে নিজের বৈদেশিক মুদ্রা পুনরুদ্ধার করবেন।
সোয়াপের মাধ্যমে পাওয়া টাকা শুধুমাত্র রপ্তানি কার্যক্রম-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে:
১। উৎপাদন ব্যয় নির্বাহ,
২। কাঁচামাল বা উপকরণ ক্রয়,
৩। শ্রমিকের বেতন ও পরিবহন ব্যয়,
৪। রপ্তানি পণ্যের প্যাকেজিং ও শিপমেন্ট খরচ।
মূল তথ্যসংক্ষেপ
- ঘোষণাকারী সংস্থা- বাংলাদেশ ব্যাংক
- বিভাগ- বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ
- সুবিধা প্রাপ্তরা- দেশের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসমূহ
- সোয়াপের মেয়াদ- ৩০ দিনের পুল অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ দিন- ইআরকিউ (Exporters Retention Quota) তহবিলের ক্ষেত্রে ব্যবহারের মেয়াদের ওপর নির্ভর করবে
- লেনদেন প্রক্রিয়া-ব্যাংক রপ্তানিকারকের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে (spot rate) বৈদেশিক মুদ্রা কিনে টাকা দেবে → নির্দিষ্ট সময় শেষে ফরওয়ার্ড রেটে মুদ্রাটি ফের বিক্রি করবে
- উদ্দেশ্য- রপ্তানিকারকদের কার্যকরী মূলধন জোগান দেওয়া- বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ে ক্ষতির ঝুঁকি কমানো
- সোয়াপ পয়েন্ট নির্ধারণ-টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রার সুদের হারের পার্থক্যের ভিত্তিতে (বাজারদর অনুযায়ী)
- সুবিধার ধরন- এটি কোনো ঋণ বা অর্থায়ন সুবিধা নয়
- ব্যবহারের শর্ত- শুধুমাত্র বৈধ ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারযোগ্য- কোনো ফটকামূলক কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ।