
বারো বছরের পড়াশোনার জীবনের একটা চূড়ান্ত ফলাফল হল ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করে কোনো স্বনামধন্য বিস্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৬০-৬৫ হাজার শিক্ষার্থী সুযোগ পাবে সেইসব বিশ্ববিদ্যালয় এ স্নাতক ও স্নাকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করার। তাই ভর্তি পরীক্ষা একদিকে যেমন সহজ নয় অন্যদিকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন। ব্যাপক প্রতিযোগিতা ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নিতে হয়। সুতরাং যারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির ২/৩ মাস একাগ্রচিত্তে, নিজের লক্ষ্য কে ঠিক রেখে সঠিক পন্থায় পড়াশোনা করবে, সফলতা তাদের জীবনেও হাতছানি দিবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতিতে সফল হতে দরকার পরিকল্পিত প্রস্তুতি। তবে এলোমেলো ভাবে পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় পাশ করা সম্ভব না। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার পাশ করার জন্য কৌশল হিসেবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। সেই ধাপ গুলো হলো-
সফলতা লাভের জন্য ভিত মজবুত হওয়া খুবি প্রয়োজন। তাই স্কুল ও কলেজর পড়া বিষয় গুলোর সাথে ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আরেক বার রিভাইস করতে হবে। কারন ভর্তি পরীক্ষায় মূলত মুল বই থেকে প্রশ্ন আসে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য যে অল্প সময় পাওয়া যায় সেই সময় পড়াশোনা করে সব বিষয়ে ভালো করা প্রায় অসম্ভব। এখানেই যাদের একাডেমিক ব্যাসিক ভালো তারা বাকিদের থেকে এগিয়ে থাকবে ও ভর্তি পরীক্ষায় সুবিধা পাবে। তাই পরীক্ষার্থীকে নিজের ব্যাসিক ঠিক করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরুতেই লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। নিজের ব্যাসিক ও সক্ষমতার অনুযায়ী কোন একটা বিশ্ববিদ্যালয় টার্গেট করে পড়াশোনা করতে হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন প্যাটার্ন এর মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা আছে। আমার সব বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় সব বিষয় একই টপিক থেকে প্রশ্ন আসে না। তাই শুরুতে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারলে প্রস্তুতি নেয়া সহজ হবে।
বিগত সালের প্রশ্ন গুলো সলভ করা একজন পরিক্ষার্থীর জন্য খুবই প্রয়োজন। এতে করে সে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ভালো আইডিয়া পাবে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারবে। এছাড়াও বিগত সালের প্রশ্ন গুলো ভালোভাবে সলভ করলে, সেইখান থেকে অনেক কিছু কমন পাওয়া যায়। যা তাকে ভালো ফলাফল এ দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাজারে বিভিন্ন প্রকাশনীয় প্রশ্ন ব্যাংক পাওয়া যায়, যেকোন একটা প্রশ্ন ব্যাংক কিনে ব্যাখ্যা সহ সমাধান পড়লেও ভর্তি পরীক্ষায় অনেক কমন পাওয়া যাবে।
রুটিন অনুযায়ী ধারাবাহিক ভাবে নিয়মত পড়াশোনা করা সফলতার পূর্বশর্ত। তাই একজন ভর্তি পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে রুটিন অনুযায়ী। যাতে করে সব বিষয় সমানভাবে গুরুত্ব পায়। তবে যেসব সাব্জেক্টে দুর্বলতা আছে, সেগুলো বেশি বেশি পড়তে হবে। কেননা ভর্তি পরীক্ষায় সব সাব্জেক্ট সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যেভাবে পড়ার রুটিন তৈরি করবেন- লক্ষ্য স্থির করে
পরীক্ষার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং পার্ট হলো পরীক্ষার হলে গিয়ে সময় ম্যানেজ করা এবং সময়ের মধ্যে সঠিক উত্তরগুলো পূরন করা। এর জন্য প্রয়োজন পূর্ব প্রস্তুতি। বার বার মডেল টেস্ট হতে পারে সময় ম্যানেজ করার এক অভূতপূর্ব সমাধান। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন কোচিং এ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, এমনকি বাসাই মডেল টেস্ট বই কিনে এনে পরীক্ষা দেওয়া যেতে পারে। এতে করে পাড়াগুলোর চর্চাও হবে, সাথে সময় ম্যানেজমেন্ট এর দক্ষতা তৈরি হবে। এছাড়া মডেল টেস্ট দেয়ার পর ভুল উত্তর গুলো নিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে। কোন টপিক থেকে আসা প্রশ্ন উত্তর ভুল হলো, কোন প্রশ্ন কমন ছিল না ইত্যাদি। ফলে নিজের প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে আছে তা জানা যাবে। পরে সেই অনুযায়ী অসম্পন্ন পড়া শেষ করলে সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
অল্প সময়ে অনেক বেশি কিছু পড়তে হয় বলে অনেকের পাড়াগুলো মনে রাখতে বেশ কষ্ট হয়। সেক্ষেত্রে রিভিশন একটি উত্তম পন্থা। পড়াগুলো বার বার রিভিশন করলে, সেগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত্ব হবে। এজন্য সপ্তাহে একদিন রিভিশন ডে রাখা যেতে পারে। এছাড়াও প্রতিদিন পড়ার শুরুতে আগের দিনের পড়া রিভাইস করলে সেগুলো খুব ভালো মনে থাকবে। আবার রিভিশন দ্রুত দেয়ার জন্য বইয়ে গুরত্বপূর্ন লাইন হাইলাইট করে রাখা যেতে পারে। এতে রিভিশন দেয়ার সময় পুরো বই না পরে শুধু হাইলাইট করা লাইন পড়লেই হবে।
ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করার অন্যতম কৌশল নিজের নোট করা। সঠিক ভাবে ও পরিকল্পনা অনুযায়ী নোট করলে দ্রুত রিভিশন দেয় যাবে, বার বার পড়ার ফলে মনে থাকবে। সিলেবাস ও প্রশ্ন এনালাইসিস করে গুরুত্বপূর্ন টপিকের উপর নিজের শর্ট নোট বানাতে হবে। এই শর্ট নোট করার সময় বিভিন্ন মডেল টেস্ট এর ভুল প্রশ্ন ও তার এনালাইসিস নোট করা যেতে পারে। যাতে একই ভুল বার বার না হয়।
ভর্তি প্রস্তুতির সময় হতাশা, আত্নবিশ্বাসহীনতা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু পজিটিভ মাইন্ডসেট (যেমন : নিজেকে বার বার বলা আমি পারব, আমার দ্বারা সম্ভব, আমি বিশ্বাসী) একজন শিক্ষার্থীকে সফল হতে খুবই সাহায্য করে। এতে মানসিক অবস্থা ভালো থাকে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের বেস্ট দিতে পারে।
"Positive thinking will let you do everything better than negative thinking will"- Zig Ziglar
সর্বোপরি একজন ভর্তি পরীক্ষার্থীকে ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রম এর মাধ্যমে এই দুইমাস অধ্যয়ন করতে হবে। নিজের দুর্বল দিকগুলোর প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে এবং বার বার রিভিশন দিতে হবে পড়াগুলো। তাহলে সফলতার দরজা আপনার জন্যও উন্মুক্ত হবে।