
বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাইমারি স্কুলের জন্য সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে থাকে। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ আলোকে নিয়োগ দেয়া হবে। নতুন নীতিমালায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাবে ২০ শতাংশ। এই বিধিমালা অনুযায়ী প্রাইমারি স্কুলে প্রধাক শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ পদোন্নতি পাবে আর বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হবে। তবে সহকারী শিক্ষক পদ থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রথমে ৯০ মার্কের এমসিকিউ ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা আর এমসিকিউ পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ন প্রার্থীদের ১০ মার্কের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। যেকোন চাকরির পরীক্ষার ভাইভা প্রস্তুতি দু একদিনে নেয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদে প্রার্থীর অভিজ্ঞতা, ব্যাক্তিত্ব ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান এর সমন্বয় ভালো ভাইভা প্রস্তুতির পূর্বশর্ত।
প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ ভাইভা পরিক্ষার প্রস্তুতিতে একজন প্রার্থীকে যেসব বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে-
ব্যক্তিত্ব ও নিজেকে উপস্থাপন- ভাইভা বোর্ডে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান বা অভিজ্ঞতার বাইরে প্রার্থীকে নিজের ব্যক্তিত্ব উপস্থাপন করতে হয়। সেই সাথে শিশুদের কীভাবে শিক্ষা দিবেন আর আপনি বাচ্চাদের সাথে ভাল আর সৌজন্যমূলক আচরন করেন সেটা নিশ্চিত করতে হলো।
নিজস্ব শর্ট নোট তৈরি করা- চাকরির পরীক্ষায় ভাইভা তে ভালো করার জন্য দীর্ঘমেয়াদে প্রস্তুতি দরকার। সেকারনে প্রার্থীর উচিত কমন কিছু প্রশ্নের উত্তর আর ভাইভার জন্য বিশেষ কিছু তথ্য নোট করে রাখা দরকার। ভাইভা নোট এ যেসব বিষয় নোট করা আবশ্যক তার মধ্যে অন্যতম- নিজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ন তথ্য, নিজ জেলার তথ্য ও বিখ্যাত ব্যক্তি ইত্যাদি।
ভাইভার জন্য দরকারি কাগজপত্র – ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীকে সাথে করে তার সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে যেতে হবে। যেমন- এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের সনদ ও মার্কশিট, সদ্য তোলা রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি কার্ড), নাগরিকত্ব সনদ, পোষ্য কোটা সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), পরীক্ষার প্রবেশপত্র, ও আবেদন কপির সব গুলোর ৩ সেট। এর বাইরে ভাইভা নোটিশে উল্লেখ করা এমন সব কাগজ সাথে রাখতে হবে।
ভাইভার ফরমাল পোশাক- আবেদনকারীর উচিত ভাইভা বোর্ডের জন্য নিজস্ব ফরমাল ড্রেস প্রস্তুত রাখা। ছেলেদের ফরমাল ড্রেস বলতে সাধারণত সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট কে বোঝায়। তবে মার্জির ও ফরমাল কালারের শার্ট সাথে ম্যাচিং করে জুতা ও বেল্ট থাকলেই হবে। ছেলেরা হাত ঘড়ি পড়লে বেল্ট এর কালারের সাথে ঘড়ির বেল্টের কালার ম্যাচিং করতে পারেন। মেয়েরা শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ পড়তে পারেন ফরমাল হিসেবে। তবে শাড়ি ও কামিজের রঙ চটকদার না কর ভালো।
মক ভাইভা দেয়া- মূল ভাইভাতে ভালো করার জন্য মক ভাইভা দেয়ার বিকল্প নেই। বর্তমানে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার গুলো নিয়মিত মক ভাইভা আয়োজন করে থাকে। অল্প টাকায় কোন একটা মক ভাইভা ব্যাচ এ ভর্তি হলে ভালো পরফর্মেন্স করতে পারবে।
অজানা প্রশ্নের উত্তরে স্বীকার করা- কোন প্রার্থী ভাইভার সকল প্রশ্নের উত্তর জানবে এমন না। এমন অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয় যা প্রার্থী জানেনা, এক্ষেত্রে প্রার্থীর উচিত ভাইভা বোর্ডে স্বীকার করে নেয়া যে সে উত্তর জানে না। এর বাইরে অনেক সময় রাজনৈতিক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হলে প্রার্থীর উচিত কৌশলে উত্তর দেয়া বা এড়িয়ে যাওয়া।
ভাইভা বোর্ডে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ: পোশাকের বাইরেও যা জরুরি
ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীর সাবজেক্টিভ জ্ঞান যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমন গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রার্থীর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। শিক্ষক হিসেবে একজন প্রার্থীর মধ্যে ধৈর্য, নম্রতা এবং আত্মবিশ্বাস আছে কিনা তা ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা লক্ষ্য করে থাকেন। প্রাইমারি শিক্ষক হিসেবে প্রার্থীর মধ্যে এইসব গুণাবলি গুরুত্বপূর্ণ।
১। প্রার্থীর নিজ জেলা ও বিভাগের গুরুত্বপূর্ন তথ্য।
২। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এ পড়া বিষয়ের কমন বা মৌলিক কনসেপ্ট গুলো সম্পর্কে ধারণা রাখা।
৩। ছোট ছোট বা গুরুত্বপূর্ন অনুবাদ করতে পারা।
৪। বাংলাদেশের সংবিধান এর মৌলিক বিষয়াবলি।
৫। দেশের চলমান ও গুরুত্বপূর্ন বিষয় সম্পর্কে জেনে রাখা।
ভাইভা প্রস্তুতির কমন কিছু প্রশ্ন
১। নিজের সম্পর্কে বলুন
২। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লব
৩। বর্তমান উপদেষ্ঠা সরকার ও তাদের কার্যক্রম
৪। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও বাজেট এর গুরুত্বপূর্ন তথ্য
৫। নিজ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি, পণ্য, দর্শনীয় স্থান।
৬। প্রার্থীর নামের নামে এমন কোন বিখ্যাত ব্যক্তি থাকলে তার বিস্তারিত জীবনী।
বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি- অন্যান্য সকল প্রস্তুতির বাইরে আবেদনকারীকে বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রার্থীকে বিগত সালের বিভিন্ন ভাইভা বোর্ডের প্রশ্ন এনালাইসিস করে ঠিক করতে হবে কোন কোন বিষয়ের কি কি টপিকস নিয়ে জানতে হবে। অনেকেই পরামর্শ দিয়ে থাকে ভাইভা বোর্ডের জন্য পড়াশোনার থেকে প্রার্থীর অভিজ্ঞতা, সাবজেক্তিভ জ্ঞান ও কনফিডেন্স বেশি কার্যকর।
১। বাংলার প্রস্তুতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ন কিছু লেখক এর জীবনী যেমন-কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মুনীর চৌধুরী, ফররুখ আহমেদ, আল মাহমুদ, ইসমাইল হোসেন সিরাজি, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ইত্যাদি। ব্যাকরণ থেকে প্রশ্ন হতে পারে সেজন্য সন্ধি, সমাস, কারক, পদ, বাক্য, বাগধারা, এক কথায় প্রকাশ রিভিশন করতে হবে।
২। ইংরেজি থেকে ভাইভাতে সব থেকে বেশি ট্রান্সলেশন জিজ্ঞেস করে। তাই প্রার্থীর উচিত Common translation অনুশীলন করা। এর বাইরে ব্যাসিক গ্রামার এর উপর দক্ষতা থাকা দরকার।
৩। গণিত অংশে গুণ, ভগ্নাংশ, শতকরা লাভ-ক্ষতি, সুদকষা, ঐকিক নিয়ম থেকে মুখে মুখে সমাধান করা যায় এমন প্রশ্ন করতে পারে তাই সেগুলো ভালো করে অনুশীলন করতে হবে।
৪। সাধারণ জ্ঞান অংশের কোন সীমানা নাই। কমন ও গুরুত্বপূর্ন বিষয় জানতে হবে এবং সাম্প্রতি তথ্য জেনে রাখতে হবে। ভাইভা বোর্ডে সংবাদপত্র থেকে চলমান গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা থেকে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ২১ জানুয়ারি ২০২৬। মোট উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন।