
সরকারি চাকরির প্রস্তুতি সঠিক ভাবে নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ন বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে সরকারি চাকরি নিঃসন্দেহে যে কারো প্রথম পছন্দ। সার্বিক সুযোগ-সুবিধা, সামাজিক পদমর্যাদা সহ সব দিক মিলে সরকারি চাকরি ভালো ক্যারিয়ার অপশন। এছাড়াও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক দিক থেকে অনেকের লক্ষ্য থাকে সরকারি চাকরি করা। তাছাড়া সরকার প্রতিবছর বিভিন্ন পদে অনেক লোক নিয়োগ দিয়ে থাকে, ফলে সরকারি চাকরি প্রস্তুতি নিলে সহজে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
তবে কেউ যেকেউ সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিক না কেন তাকে অবশ্যই সেই সরকারি চাকরির পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ও বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে।
বাংলাদেশে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের সরকারি চাকরি পরীক্ষা তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
১। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বা এমসিকিউ পরীক্ষা
২। লিখিত পরীক্ষা
৩।ভাইবা বা মৌখিক পরীক্ষা
চাকরিপ্রার্থীকে সবার আগে একটি প্রিলিমিনারি বা এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস করলে ভাইবা বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে। ভাইভা ও লিখিত পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হয় ও সেই মেধাতালিকা অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া হয়।
সব সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইবা পরীক্ষার মাধ্যমে হলেও, সব পরীক্ষায় একই রকম হয় না। কিছু ক্ষেত্রে পিলিমিনারি পরীক্ষা হতে পারে আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রিলি পরীক্ষার লিখিত আকারে দিতে হয়। তাই সরকারি চাকরির প্রস্ততির শুরুতে আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন আর তার প্রশ্ন কাঠামো বা সিলেবাস কেমন।
চাকরির পরীক্ষার সিলেবাসের জন্য যে চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছেন তাদের ওয়েবসাইট চেক করতে পারেন। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন, ব্যাংক সিলেকশন কমিটি নিয়োগ পরীক্ষার সিলেবাস দিয়ে থাকে, এর বাইরে অন্যান্য চাকরির পরীক্ষার সিলেবাসের জন্য বাজারে প্রচলিত যে কোন নিয়োগ গাইড দেখতে পারেন। নিয়োগ গাইড ও বই গুলোতে চাকরির পরীক্ষার সিলেবাস ও বিগত সালের সরকারি চাকরির প্রশ্ন ব্যখ্যা সহ সমাধান দেয়া থাকে। আপনি আপনার পছন্দের যে কোন গাইড বই থেকে সরকারি চাকরির প্রশ্ন কাঠামো ও সিলেবাস সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।
তবে বাংলাদেশের বিসিএস প্রস্তুতিকে বলা হয় মাদার অফ অল প্রিপারেশন। কারন আপনি বিসিএস প্রস্তুতি নিলে অন্যান্য সকল সরকারি চাকরির প্রস্তুতি প্রস্তুতির জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি বা পড়াশোনা করতে হবে না। বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি পাশ করার জন্য যেসব বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হয় -
১। বাংলা ভাষা
২। বাংলা সাহিত্য
৩। ইংরেজি ভাষা
৪। ইংরেজি সাহিত্য
৫। বাংলাদেশ বিষয়াবলী
৬। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী
৭। ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
৮। সাধারণ বিজ্ঞান
৯। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি
১০। গাণিতিক যুক্তি
১১। মানসিক দক্ষতা
১২। নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন
অন্যদিকে বেশিরভাগ সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন করা হয় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থেকে যা বিসিএস সিলেবাসের অংশবিশেষ। তাই বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে অন্যান্য অনেক পরীক্ষা দেয়া যায়। ফলে এক ছকে অনেক চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ে যায়।
প্রশ্ন কাঠামো ও সিলেবাস সম্পর্কে বিস্তারিক ধারনা নিয়ে প্রথমেই চাকরি প্রার্থীকে সকল বিষয়ে গোছানো প্রস্তুতির জন্য নিজস্ব পরিকল্পনা ও পড়ার একটি রুটিন তৈরি করে নিতে হবে। পরিকল্পনা বলতে কতগুলো বিষয় পড়তে হবে, নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী দিনে কত ঘন্টা পড়বো, দিনের কোন সময় কোন সাবজেক্ট পড়বো, কত দিনে প্রস্তুতি শেষ করবো,রিভিশন কিভাবে দিব, কোন সাবজেক্ট এ নোট করবো, কোন বিষয় বা টপিকস গুলো আমার কাছে কঠিন সেই গুলো নোট করবো কিনা তা। পরিকল্পনা হয়ে গেলে সেই পরিকল্পনা মাফিক নিজের পড়ার রুটিন বানিয়ে নিতে হবে। রুটিন বানিয়ে পড়ার সুবিধা হলো একঘেয়ামী না হয়ে যাওয়া ও এক সাথে সব প্রস্তুতি সমান তালে চালিয়ে যাওয়া। এছাড়া রুটিন থাকলে পড়াশোনা বাইরের ডিস্ট্রাকশন থেকে সহজে ফোকাস পড়শোনাতে দেয়া সহজ হয়।
সরকারি চাকরির প্রস্তুতির শুরুর দিকে আপনি কোন পরীক্ষার ফুল মডেল টেস্ট দিলে কোন প্রশ্নের উত্তর করতে পারবেন না। সব প্রশ্ন আপনার কাছে কঠিন মনে হবে, আপনি হতাশ হয়ে যাবেন। আপনার মাথায় নেতিবাচক চিন্তা আসতে পারে এত কিছু কতদিনে পড়বো, আমি এত পড়াশোনা করতে পারবো কিনা।
"Success doesn’t come from what you do occasionally, it comes from what you do consistently." - Marie Forleo
সফলতা একদিনে আসবে না, একটা লম্বা সময় পরিশ্রম করলে প্রস্তুতি গুছিয়ে আসবে। একটা সময় পর আপনিও ফুল মডেল টেস্ট বা কোন চাকরি পরীক্ষার সকল প্রশ্নের উত্তর পারবেন।
তাই প্রস্তুতির শুরুতে ফুল মডেল টেস্ট না দিয়ে অধ্যায় ভিত্তিক প্রশ্ন সমাধান বা অধ্যায় ভিত্তিক এমসিকিউ টেস্ট দিতে পারেন। যে সাবজেক্ট এর যে অধ্যায় পড়া শেষ হবে সেই অধ্যায়ের উপর টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাছাই করে নিতে পারেন। এছাড়া কোন অধ্যায়ের উপর টেস্ট দিলে ঐ অধ্যায়ের প্রস্তুতিতে কোন ঘাটতি থেকে গেলো কিনা জানা যাবে, ফলে প্রস্তুতির গ্যাপ গুলো জানা যাবে ও সাথে সাথে তা পূরন করে প্রস্তুতি আগানো যাবে।
অধ্যায় ভিত্তিক পড়াশোনা ও টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি মোটামুটি শেষ হলে ফুল মডেল টেস্ট দেয়া শুরু করতে হবে। ফুল মডেল টেস্ট দেয়ার মাধ্যমে বাস্তব পরীক্ষার চাপ অনুভব করা যাবে এবং আসল পরীক্ষায় সময় বণ্টন এর অভ্যাস হবে। এছাড়া নিয়মিত মডেল টেস্ট দিলে প্রস্তুতির জন্য আর কোন কোন বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে বা আমি পড়েছি কিন্তু ভুলে গেছি এমন বিষয় গুলো সনাক্ত করা যাবে। মডেল টেস্ট দিয়ে যে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না সেই অধ্যায় গুলো নতুন করে পড়ে নিবেন আবার আপনি পড়েছেন তবুও ভুল করেছেন এমন হলে সেই বিষয় রিভিশন দিয়ে নিতে পারবেন। এভাবে পড়লে আপনার প্রস্তুতিতে কোন গ্যাপ থাকবে না আর আপনার পরীক্ষার পাশ করার সম্ভাবনা অনেক গুন বেড়ে যাবে।
অধ্যায় ভিত্তিক টেস্ট বা মডেল টেস্ট দেয়ার সময় আপনি যে প্রশ্ন গুলো ভুল করবেন সেগুলো আলাদা ভাবে নোট করে রাখতে পারেন। সেই সাথে কোন প্রশ্ন কেন ভুল করলেন সেগুলো নোট করে রাখলে আপনাই বুঝতে পারবেন পরীক্ষার আপনার ভূল কি ধরনের করে থাকেন। নোট করা থাকায় আপনি সহজে জানতে পারছেন আপনি সাধারণত কি কি ভুল করেন, ভুল গুলো জানা থাকায় আপনি আসল পরীক্ষায় সেই ভুল করা থেকে বিরত থাকলে সহলে পরীক্ষায় পাশ করতে পারবেন। ভুল সংশোধনের পাশাপাশি নোট করার অভ্যাস প্রস্তুতিতে অনেক সাহায্য করে। এক ঘেয়ামী পড়া আর পড়া না করে মাঝখানে কিছুক্ষন লেখার ফলে এক ঘেয়ামী কেটে যাবে। পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়বে।
চাকরির প্রস্তুতিতে জব সল্যুশন হলো আপনার সবথেকে কাছের বন্ধু। আপনি যে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন সেই পরীক্ষার সিলেবাসের বাইরে আর কিছুই জানেন না। কি প্রশ্ন আসবে তা কেউ জানেনা। কিন্তু বিগত সালের প্রশ্ন দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন কি ধরনের প্রশ্ন করা হয়, কোন কোন টপিকস থেকে প্রশ্ন আসে। প্রশ্ন সহজ আসে না কঠিন আসে তা জানার একমাত্র উপায় বিগত সালের প্রশ্ন পড়া। আর জব সল্যুশন হলো বিগত সালের প্রশ্নের আধার। জব সল্যুশনে বিগত সালের অনেক প্রশ্নের ব্যাখ্যা সহ সমাধান দেয়া আছে। আপনি সহজেই জব সল্যুশন পড়ে ধারনা করতে পারবেন পরীক্ষায় কেমন প্রশ্ন হয়।
তবে জব সল্যুশন পড়ার ক্ষেত্রে ভুল করা যাবে না। বাজারে প্রচলিত জব সল্যুশন গুলো অনেক মোটা প্রায় ১০০০ পেজ বা কম বেশি। আপনি একদিক থেকে পড়া শুরু করলে এক মাসেও শেষ করতে পারবেন না। জব সল্যুশন পড়তে হবে কৌশলে। প্রথমে আপনি শুধু এমসিকিউ পড়ে ফেলবেন। কোন প্রশ্ন কঠিন লাগলে মার্ক করবেন। যত দ্রুত সম্ভব জব সল্যুশন শেষ করে ফেলতে হবে, তাহলে আপনি চাকরির পরীক্ষায় কোন কোন বিষয় ও টপিকস গুরুত্বপূর্ন বা বার বার পরীক্ষায় আসে না জেনে যাবেন। দ্বিতীয়বার জব সল্যুশন পড়ার সময় ব্যাখ্যা সহ পড়তে হবে এবং গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন ও ব্যাখ্যা মার্ক করে রাখতে হবে যাতে পরবর্তী সময়ে রিভিশন দিতে চাইলে দ্রুত রিভিশন দেয়া যায় । এভাবে পড়লে অল্প সময়ে জব সল্যুশন পড়ে শেষ করতে পারবেন।
আপনি যেভাবেই পড়েন না কেন আর যত বেশি মডেল টেস্ট দিন না কেন আপনাকে নিয়মিত রিভিশন দিতে হবে। আপনি দু একটা মডেল টেস্ট কম দিলেও প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে কিন্তু রিভিশন কম দিলে আপনার সফলতা অনিশ্চিত হয়ে যাবে। যে বই গুলো পড়েছেন সেই বই গুলো পরীক্ষার আগে বার বার রিভিশন দিন। আপনি যত ভালো ভাবে পড়ে থাকুন না কেন, রিভিশন না দিলে আপনি সব ভুলে যাবেন। পরীক্ষার হলে কনফিউশনে পরে যাবেন উত্তর প্রথমটা হবে নাকি দ্বিতীয়তা।
নিয়মিত রিভিশন দিতে চাইলে আপনাকে সেই ভাবে পরিকল্পনা করতে হবে ও আপনার পড়ার রুটিনে রিভিশনের জন্য আলাদা ভাবে সময় বরাদ্দ রাখতে হবে। সবথেকে ভালো হয় সপ্তাহের ৭ দিনের মধ্যে ৬ দিন নিয়মিত পড়াশোনা করা মডেল টেস্ট দেয়া আর সপ্তাহের একদিন বরাদ্দ রাখা ঐ সপ্তাহের সকল পড়া রিভিশন দেয়া। বিগত সপ্তাহের পড়া বাইরে মুখস্ত অংশ ও বিভিন্ন সুত্র নিয়মিত রিভিশন দেয়া। এক্ষেত্রে শুরুতেই মুখস্ত অংশ বা গুরুত্বপূর্ন সুত্রের জন্য আলাদা নোট বানিয়ে নিলে সুবিধা পাওয়া যাবে। জাস্ট নোট থেকে গুরুত্বপূর্ন অংশ গুলো দ্রুত পড়ে নেয়া যাবে।
বাংলাদেশে বিবিএস এর শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৩ অনুযায়ী বেকারের সংখ্যা ৬৩ লাখ। যাদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ শিক্ষিত এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকত্তোর করে বেকার ২১ শতাংশ। জরিপ থেকে জানা যায় ১৫-২৯ বছর বয়সী বেকার জনসংখ্যা ৩৮ লাখ যারা বিভিন্ন চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে চাকরি পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা অনেক কম। ছাত্রজীবন থেকেই চাকরির প্রস্তুতি নিলেও অনেকেই সরকার চাকরির বয়স শেষ হলেও কোন চাকরি পাচ্ছেন না। মোটাদাগে বাংলাদেশের চাকরি প্রার্থীদের কমন কিছু ভুল-
১। পরিকল্পনার অভাব- বাংলাদেশের বেশিরভাগ চাকরি প্রার্থী পরিকল্পনা মাফিক প্রস্তুতি নেন না। তারা বাকিদের দেখে তাদের মত করে পড়াশোনা শুরু করে, নিজস্ব রুটিন ও প্ল্যান না থাকায় কিছুদিনের মধ্যে হতাশ হয়ে যায় ও ফলাফল শুন্য।
২। সিলেবাস না জানা বা অনুসরণ না করা- সব পরীক্ষার জন্য সব কিছু পড়তে হয় না। পরীক্ষা ভেদে অনেক কিছু গুরুত্বপূর্ন আবার অনেক পরীক্ষার জন্য অনেক বিষয় একদন গুরুত্বপূর্ন না। তাই যে পরীক্ষা সেই পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি না নেওয়ার কারনে অনেকেই পাশ করতে পারেনা।
৩। অতিরিক্ত বই বা রিসোর্স ব্যবহার করা- বাজারে চাকরির প্রস্তুতির জন্য একই বিষয়ের অনেক প্রকাশনীর বই আছে। একই বিষয়ের সব বইয়ে কম বেশি একই তথ্য আছে। কিন্তু অনেকেই একই বিষয়ে একাধিক বই পড়ে সময় অপচয় করে। অথচ উচিত এক বিষয়ে এক বই বার বার রিভিশন দেয়া।
৪। নিয়মিত রিভিশন না করা- পর্যাপ্ত রিভিশনের অভাবে বেশিরভাগ প্রার্থী পারা ও জানা বিষয় গুলো পরীক্ষায় ভুল করে আসে। এছাড়া শুধু নতুন বিষয় পড়েই অতিরিক্ত সময় নষ্ট করা।
৫। কোচিং নির্ভর হয়ে যাওয়া- সকল প্রার্থীর সক্ষমতা সমান নয়। এছাড়া প্রস্ততির জন্য সঠিক দিকনির্দেশন গুরুত্বপূর্ন। অনেকেই নির্দেশনার চক্করে পরে কোচিং নির্ভর হয়ে যায়। কোচিং এ যা পড়ায় তার বাইরে কোন কিছু পড়ে না। অনেকের ক্ষেত্রে এই নির্ভরশীলতা ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সরকারি চাকরির প্রস্তুতির অবশ্যই করণীয়
লক্ষ লক্ষ চাকরি প্রত্যাশীদের পিছনে ফেলে চাকরি পেতে শুধু পড়াশোনা পর্যাপ্ত না। পড়াশোনার পাশাপাশি দরকার নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক দিক নির্দেশনা, সঠিক কৌশল।
১। বিষয়ভিত্তিক সময় বণ্টন ও অনুশীলন- শুরুতেই নিজের জন্য একটি রুটিন তৈরি করে নিয়ে সেই রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে এবং পরিকল্পনা মাফিক নির্দিষ্ট সময়ে সব বিষয়ের প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। প্রতিদিনের জন্য টার্গেট ঠিক করতে হবে ও দিনের মধ্যে সব শেষ করতে হবে।
২। সিলেবাস বিশ্লেষণ করা- বিসিএস, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষা- যেটিই হোক না কেন প্রত্যেক পরীক্ষার সিলেবাস ও প্রশ্নের প্যাটার্ন আলাদা, তাই প্রস্তুতির সময় সেই পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষন করে দেখতে হবে ঐ পরীক্ষার জন্য কোন বিষয় গুলো গুরুত্বপূর্ন। প্রশ্ন বিশ্লেষন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে তাহলে অল্প প্রস্তুতিতে ভালোফলাফল পাওয়া যাবে।
৩। নির্দিষ্ট বই নির্বাচন করা- প্রতিটি বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট ১-২টি বই নির্ধারণ করতে হবে এবং বার বার রিভিশন দিতে হবে।
৪। স্টাডি গ্রুপে যুক্ত হওয়া- সকলের ক্ষেত্রে না হলেও অনেকের জন্য স্টাডি গ্রুপে যুক্ত হওয়া ভালো ব্যাপার। স্টাডি গ্রুপে বাকিদের পড়াশোনা দেখে নিজের পড়ার আগ্রহ বাড়বে এবং কোন বিষয় না বুঝলে বাকি সদস্যদের থেকে বুঝে নেয়া যাবে।
সোশ্যাল মিডিয়া এখন আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। আমরা চাইলেও আমাদের স্বাভাবিক জীবন সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে চিন্তা করতে পারবো না। তবে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের মনোযোগ নষ্ট করে সেই সাথে আধুনিক অনেক বিভ্রান্তিকর জিনিসে আমাদের আসক্তি বাড়ায়। তাই একজন চাকরি প্রার্থীর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতির কারন।
তবে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রনীত ভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে চাকরির প্রস্তুতিতে তা সহায়ক উপকরন হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের বহুল জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের উদাহরন দিয়ে বোঝানো হচ্ছে।
প্রথমতা- চাকরির প্রস্তুতি ও পরামর্শ দেয় এমন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে যুক্ত হতে হবে।
দ্বিতীয়ত- নির্দিষ্ট পেজ ও গ্রুপের পোস্ট নিয়মিত দেখতে হবে তাহলে দেশের চাকরির বাজারের সার্বিক আপডেট সহজে পেয়ে যাব।
তৃতীয়ত- চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন শেষ দিন, পরীক্ষার আপডেট, সাজেশন, প্রশ্ন বিশ্লেষন, হ্যান্ডনোট ইত্যাদি পাওয়া যায় এমন গ্রুপ ও পেজে যুক্ত থাকা।
চতুর্থত- দৈনিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট করে শুধু সেই সময় কার্যকর ভাবে ব্যবহার করলে উপকার হবে।
বাংলাদেশে সরকারি চাকরি পাওয়ার পথ অনেক দীর্ঘ। সফলতা পাওয়ার জন্য লেগে থাকতে হবে ও নিরলস পরিশ্রম করে যেতে হবে। তবে চাকরির প্রস্তুতির এই জার্নিতে যারা কৌশলি ও সঠিক দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চলে যারা সফল হয়।