
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদের নিয়োগ প্রস্তুতি একটি দীর্ঘমেয়াদী ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া। এই নিয়োগ পরীক্ষা সাধারণত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়: ১০০ মার্কের প্রিলিমিনারি (MCQ), ২০০ মার্কের লিখিত (Written) এবং ২৫ মার্কের ভাইভা (Viva) পরীক্ষা।
পরীক্ষার কাঠামো: তিনটি ধাপ, তিনটি ভিন্ন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে একজন চাকরি প্রার্থী বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক হতে পারেন। ধাপ ৩টি হলো
ধাপ ১: প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (MCQ)
মোট ১০০ নম্বর এমসিকিউ ভিত্তিক পরীক্ষা হবে, সময় বরাদ্দ থাকে ১ ঘণ্টা। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর, প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হয়।
প্রিলিমিনারি বা এমসিকিউ পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন:
ধাপ ২: লিখিত পরীক্ষা
মোট ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, লিখিত পরীক্ষার জন্য সময় সাধারণত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বরাদ্দ ত্থাকে। লিখিত পরীক্ষার বিষয়
ধাপ ৩: মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)
লিখিত উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই শুধু ভাইভা পরীক্ষা দিয়ে থাকেন। সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে (মতিঝিল) এ এই মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ন প্রার্থীদের লিখিত ও ভাইভা মার্ক হিসাব করে মেধা তালিকা তৈরি করা হয়। চুড়ান্ত মেধাতালিকা থেকে সার্কুলার অনুযায়ী শূন্য পদে প্রার্থীদের বাংলাদেশ ব্যাংক সহকারী পরিচালক হিসেবে চাকরি পেয়ে থাকেন। তবে অনেক সময় সার্কুলারে উল্লেখিত শূন্য পদের থেকে কম বা বেশি প্রার্থীকে চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত করা হয়।
সহকারী পরিচালক প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি কিভাবে নিতে হয়?
বাংলাদেশে সরকারি চাকরি পরীক্ষায় প্রিলি পরীক্ষাতেই বেশিরভাগ প্রার্থীর বাছাই হয়ে যায়। সহকারী পরিচালক পদে চাকরি সম্মানের ও অনেক সুযোগ সুবিধা থাকায় প্রতি বছর কয়েকলাখ পরীক্ষার্থীর এ পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে এবং মাত্র কয়েকশো লিখিত পরীক্ষার অংশগ্রহনের যোগ্যতা অর্জন করে। তাই প্রিলি পরীক্ষা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক জবের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো মার্ক পেতে সুনির্দিষ্ট কৌশল ও বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে হবে।
গণিত ও মানসিক দক্ষতা
চাকরির পরীক্ষার জন্য গণিতে ভালো প্রস্তুতি নিতে বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষন করে নবম-দশম শ্রেণীর পাঠ্যবই থেকে প্রথমেই গুরুত্বপূর্ন অধ্যায় গুলোর দক্ষতা অর্জন করতে হবে, সেই সাথে নিয়মিত অংক সমাধান করতে হবে।
দ্রুত সময়ে প্রিলি গণিত সমাধানে প্রয়োজনে সুত্রগুলো নোট করে বার বার রিভিশন দিতে হবে। গণিত অংশের প্রশ্নে সবথেকে মজার ব্যাপার হলো কোন প্রার্থী সুত্র ও ব্যাসিক ঠিক থাকলে অনেক প্রশ্নের উত্তর করতে পারে। ফলে গণিত অংশে ভালো করতে পারলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা পাশ করা সহজ হয়।
গণিত অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ন অধ্যায় গুলো হলো
গণিতের প্রশ্ন যেহেতু ইংরেজিতে আসে তাই ইংরেজি ভাষায় গণিত প্রশ্ন সমাধানের অভ্যাস করতে আইবিএর এমবিএ ভর্তি পরীক্ষার বিগত সালের প্রশ্ন, GRE ও GMAT-এর প্রশ্ন সমাধান করলে মুল প্রিলি পরীক্ষা সুবিধা পাওয়া যায়।
ইংরেজি (২৫ নম্বর)
বাংলাদেশ ব্যাংক সহ অন্যান্য সরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রিলির ইংরেজিতে ভালো মার্ক হলে ভোকাবুলারির উপর দক্ষতা থাকা ভালো। ইংরেজি ভোকাবুলারি ভালো দক্ষতা অর্জনে নিয়মিত ইংরেজি পত্রিকা পড়তে হবে।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় যেসব টপিক থেকে বেশি প্রশ্ন আসে
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (২৫ নম্বর)
বিসিএস সহ অন্যান্য সরকারি চাকরির প্রস্তুতি থাকলে সহকারী পরিচালক পদের প্রিলির বাংলার জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে না। শুধু নিয়মিত অধ্যায় ধরে রিভিশন দিয়ে মডেল টেস্ট এক্সাম দিলেই হবে।
নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ডের বই ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ’ ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পাঠ্যবই থেকে সাহিত্যিকের জীবনী পড়তে হবে।
বাংলা ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ন টপিক গুলো হলো
সাধারণ জ্ঞান (২০ নম্বর)
বাংলাদেশ ব্যাংক সহকারী পরিচালক পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশে ভালো করতে হলে প্রথাগত পড়াশোনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে।
যেকোন চাকরির পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান অংশের পরিধি বিশাল। তবে ভয় না পেয়ে কৌশলী হয়ে, প্রশ্ন বিশ্লেষন করে গুরুত্বপূর্ন ও নির্দিষ্ট টপিকে ফোকাস করলেই ভালো মার্ক পাওয়া যায়।
সাধারণ জ্ঞান অংশের গুরুত্বপূর্ণ টপিক হলো
কম্পিউটার ও আইসিটি (১০ নম্বর)
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু টপিক থেকে বেশি প্রশ্ন আসে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের পরীক্ষার আসা কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রশ্ন অবশ্যই ব্যাখ্যা সহ পড়তে হবে। এ অংশে অনেক টেকনিক্যাল প্রশ্ন আসে, তাই স্পষ্ট ভাবে টপিকের বিস্তারিত না জানলে উত্তর ভুল হতে পারে।
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে যা পড়তে হবে
সহকারী পরিচালক লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি
লিখিত পরীক্ষায় ভালো মার্ক প্রার্থীর সহকারী পরিচালক হওয়ার স্বপ্ন পুরনের একমাত্র সিড়ি। লিখিত পরীক্ষায় ভালো মার্ক পেতে বিগত বছরের লিখিত প্রশ্ন ভালোভাবে পড়তে ও প্রশ্ন সমাধান করতে হবে। এছাড়াও
ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে নিতে হবে
প্রায়শই চাকরি প্রার্থী যে ভুলগুলো প্রার্থীরা করে থাকে। অনেক বছর ধরে এই পরীক্ষার প্যাটার্ন দেখলে কিছু সাধারণ ভুল চোখে পড়ে:
১. শুধু MCQ-কেন্দ্রিক প্রস্তুতি নেওয়া। লিখিত পরীক্ষার জন্য আলাদা প্রস্তুতি না থাকা ও প্রিলিমিনারি পরীক্ষা পাশের পর লিখিত পরীক্ষার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে না পারায় ফেইল করা।
২. কম্পিউটার অংশকে সহজ মনে করা। এখানে প্রযুক্তিগত প্রশ্ন আসে, সাধারণ ধারণা থাকলেই হয় না। টেকনিক্যাল ও আপডেট প্রযুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাই বিস্তারিত ধারণা দরকার।
৩. সাধারণ জ্ঞানে শুধু বইনির্ভর থাকা। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি না পড়লে এই অংশে পুরো নম্বর পাওয়া কঠিন।
৪. ভাইভার জন্য আলাদা প্রস্তুতি না নেওয়া। লিখিত পার হওয়ার পরেও অনেকে ভাইভায় অপ্রস্তুত থাকেন।
বিসিএস প্রিলির প্রস্তুতি থাকলে এডি প্রিলির জন্য খুব বেশি নতুন কিছু পড়তে হবে না। কারণ সিলেবাসের বড় অংশ একই। শুধু ব্যাংকিং ও অর্থনীতিতে একটু বেশি গভীরে যেতে হবে।